তিন ঘণ্টা পর কিশোরগঞ্জে ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়ের আগুন নিয়ন্ত্রণে, পুড়ে গেছে নথিপত্র
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন কোর্ট এলাকায় জেলা ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আজ ভোরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে কার্যালয়ের স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।এ সম্পর্কে কিশোরগঞ্জের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মনিরুজ্জামান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুনে একটি সরকারি মোটরসাইকেল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ফটোকপি মেশিন, ছয়টি পস মেশিন, বডি অন ক্যামেরা ১৮টি, বেতারযন্ত্র ওয়াকিটকি ৪টি, ট্রাঙ্ক ও আসবাবসহ ৪০০টি ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ পাঁচ শর মতো গাড়ির মামলার কাগজপত্র ও যানবাহনের রেজিস্ট্রেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজ পুড়ে গেছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার বিষয়টি প্রথম দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। তাঁরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। এ সময় কার্যালয়ের ভেতরে চারজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ঘুমিয়েছিলেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই তাঁরা কার্যালয় থেকে দৌড়ে বের হন। ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে নথিপত্র পুড়ে গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টায় সকাল আজ সাড়ে ছয়টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন।
কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তাঁদের পাঁচটি ইউনিট দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি দল কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে বলা যাচ্ছে না । এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, ঘটনা শোনামাত্রই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও কীভাবে আগুন লেগেছে, সেটা জানা যাবে।








